Posts

মানব কার্নেল

আপডেট আর আপগ্রেড। অপারেটিং সিস্টেমের জন্য দুটো শব্দের সাথে সবাই কম বেশি পরিচিত। মানুষের জন্য মেটেফরিকভাবে বলতে গেলে আমি আপডেট আর আপগ্রেড শব্দ নিয়ে প্রায়ই কনফিউজড হয়ে যাই। এমন খুব কমই হয় যে পাঁচ বছর আগে পিসিতে উইন্ডোজ দেখে গেছেন এখন এসে দেখেন যে ঐ একই পিসি তে ম্যাক চলতেসে। হয় না যে তা না। হতে পারে। ইউজারের টেস্ট বদলে গেসে এখন লিনাক্স ও চলতে পারে, অথবা তার কাজের রিকোয়ারমেন্টের জন্য চেঞ্জ করা লাগসে।অথবা নতুন পিসিও দেখা যেতে পারে। মানুষ কারণে অকারণে কার্নেল বদলে ফেলতে পারে। প্রয়াত মুনীর চৌধুরী রক্তাক্ত প্রান্তরে লিখেছিলেন,"মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে অকারণে বদলায়, সকালে বিকালে বদলায়"। মানুষের ক্ষেত্রে তো মানুষ নিজের কার্নেলই বদলে ফেলতে পারে।মানুষের দেহ একটাই থাকে মৃত্যু পর্যন্ত। ভেতরের সব পরিবর্তন হয় আমাদের মন-মানসিকতায়।তার প্রতিফলন হয় আমাদের চলা- ফেয়ায়,কথা-বার্তায়,আচার-আচরণে,জীবন যাপনে। মানুষের কার্নেল যার চেঞ্জ হয় সেটা লিনিয়ার ইকুয়েশনে চেঞ্জ হয় না। যার হয় তাদের কারো এক্সপোনেনসিয়াল হারে হয়, কারো লগারিদমিক গ্রোথে হয়। অসীমতট বাউন্ডে হয়। আর যার হয়...

জীবন ক্যানভাস

আমাদের জীবনকে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে একটা মেটাফরিকাল গল্প আমার বলতে খুব ভালো লাগে। জীবনটা দৈর্ঘ্য-প্রস্থর ছবি আঁকার সাদা ক্যানভাসের মত। আমরা এর মেজারমেন্ট টা জানি না। আমরা ক্যানভাসের হাতের বাম দিকের একেবারে শেষ (০,০) পজিশন থেকে ছবি আঁকা বা রঙতুলি দিয়ে রঙ করা শুরু করি। বিধাতা আমাদের কে বিভিন্ন রকমের রঙের কালেকশন দিয়েছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমরা নিজেরদের রঙ দিয়ে কেউ নিজেদের ক্যানভাসে রঙ করতে পারবো না। সবসময় এই রঙগুলো অন্য কারো ক্যানভাসে রঙের জন্য। এইরকমভাবে সবাই অন্যদেরটা রঙ করলে সবার ক্যানভাস ই রঙিন হবার কথা। নিজের ক্যানভাসে তুলির আঁচড় দিতে হলে অন্যের থেকে পাওয়া রঙতুলির আঁচড়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে। কেউ সরাসরি রঙ করে, কেউ পেন্সিলের আউটলাইন করে তাতে রঙ ব্যবহার করে। কারো ক্যানভাস সাদাকালোই রয়ে যায়। কারো একেবারেই সাদা। কারো বাহারি ডিজাইন, কারো বাহারি রঙের সমাহার। এই নিজের ক্যানভাসকে রঙ এ রঙিন করতে করতে কেউ কেউ জীবনের প্রস্থ পর্যন্ত চলে যায়। তখন জীবনের দৈর্ঘ্য বরাবর সে আঁকতে থাকে। ক্যানভাসের পঁটে ছবি আমার কিন্ত তুলির আঁচড় অন্যের! ব্যাপারটা এমনি দাঁড়ায় যে, অন্যে আপনার ক্যানভাস রঙ ক...

কাল্পনিক মন প্রকৌশল

আমরা প্রায়ই 'মন' এর' অবস্থান নিয়ে গুলিয়ে ফেলি। কোথায় তার আবাসন? হৃদপিণ্ডে? নাকি মস্তিষ্কে? আবাসন বিতর্কে যাবো না। নানান মুনির নানা মত। আমাদের চিন্তা-ধারা, প্রস্তাবিত এবং চলমান কর্মকাণ্ডই আমাদের মনের প্রতিফলক। “A mind not to be changed by place or time. The mind is its own place, and in itself can make a heav'n of hell, a hell of heav'n.” ― John Milton, Paradise Lost আমাদের মনকে একটা ইট,রড, বালু,সিমেন্টের কাঠামো হিসেবে দাঁড় করানো যায়। হিলবার্টের ইনফিনিটি হোটেল প্যারাডক্সের  প্রপার্টি এই কাঠামো ফলো করে। মনের অনেকগুলো কক্ষ থাকে। দরজা ছাড়া বা তালা বদ্ধ । চাবি গুলো আমাদের কাছে থাকে। নতুন কক্ষ তৈরি করতে থাকি প্রতিনিয়ত। আমরা চাবি অনেক সময় ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হারিয়ে ফেলি। অথবা পুরাতন কক্ষকে নতুন আঙ্গিকে সাজাই বা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেই। চাবি হারিয়ে ফেলা মানে এই না যে কক্ষ মুছে গেল। তবে চাবি হারিয়ে গেছে মানে ঐ কক্ষে নিজের আর প্রবেশাধিকার নেই। পুনরায় ঐ কক্ষে যেতে গেলে হয় চাবি নিয়ে আসো নয়ত ঐরকম আরেকটা বানিয়ে ফেলো। ঠিক যেমন সিম কার্ড হারিয়ে গেলে হয় নতুন সিম ওঠানো হয় ঐ নাম্বার...

বেবী-আগুন আর মা-আগুন

বেবী-আগুন আর মা-আগুন এর মধ্যে কথোপকথনঃ :- আচ্ছা মা আমি আগুন কেন? :- আমাদেরকে সৃষ্টিকর্তা আগুন হিসেবে বানিয়েছেন। তোমার বোন, বাবা, ভাই তারাও তো আগুন। :- আমাকে এতো গরম করে বানিয়েছেন কেন? আমাকে দিয়ে সবার অনেক ক্ষতি হয়। তারপরও আমাকে কেন সৃষ্টিকর্তা আগুন হিসেবে বানিয়েছেন? :- না বেবী, রাগ করো না। কই এই যে দেখো তোমার বোনকে, তাকে দিয়ে চুলায় রান্না করা হয়। তোমার বাবাকেই বা দেখো, সূর্যের গায়ে থেকে থেকে সবাইকে আলো দিয়ে বেড়াচ্ছে। আর বাবাকে বেঁচে থাকতে হলে তো একটু শ্বাস নিতেই হবে, তাই না বেবী. তাই একটু আধটু গরম তো লাগবেই। :- কিন্তু তারপরও মানুষ আমাকে ভালোবাসে না। সবাই দূরে থাকে কেন? এই যে ম্যাচ এর কাঠি বা গ্যাস-লাইটার জ্বালানোর পর আমি সবাইকে দেখতে না দেখতে আবার আমাকে নিভিয়ে ফেলে। আমি কখনোই পুরোটা সময় থাকি না। :- আরে এই যে তোমার ভাইকে দেখো। সে মোমবাতিতে থাকে। শীতকালে সবাই আমাদের কাছে আসে। আমাদের থেকে আলো পায়, তাদের শরীরটা গরম করে। আর কারেন্ট চলে গেলে যখন টর্চ/মোবাইল না পায় তখন তো ম্যাচ এর কাঠিতে/লাইটারে তোমাকে খুঁজে নেয় বেবী। :- কিন্তু আমি যে স্পষ্ট শুনলাম। বাসার বাচ্চাটা আমাকে ম্যাচ দ...

Living thoughts

We can't define anything by our own as that definition will vary from person to person. If a person can't fit through your box, there remain only two possibilities. One, the person is smaller than your box. And the other is your box is too short for the person. Why encase ourselves with the captivity of negativity? Complexity is a term that defines the lack of simplicity. Conversely simplicity is defined as lack of complexity. How on earth can anyone define them with solo definition without involving the opposite! None. The guilt for doing mistake is OK, but the guilt for not accepting the mistake is not. There is nothing called mistakes. Those are not trying with proper care. So those still counts. Taken decisions make a person the man he wanted to be. We happy we live. We live by breathing and that can't be be so long. We live inside the person who love us. That's called living longer. Leave your meaningful footprints. 👣 Life is worthy and beautiful.

স্বপ্রণোদিত ভাবনা-২

সময়ের সাথে সাথে অবান্তর অনেক কিছু লিখে যাচ্ছি ইদানীং। কম লিখা দরকার। (১) নিচুতলার মানুষেরা ভাবে,উঁচুতলার মানুষরা অনেক সুখী। আবার ভাইস-ভার্সা ও। যদিও জরিপে দেখা যায় উঁচুতলার মানুষরাই অনেক অসুখী হয়ে থাকে। জনপ্রিয় গানের কলিতে দেখা যায়, "সুখেরই পৃথিবী,সুখেরই অভিনয়;যত আড়ালে রাখো,আসলে কেউ সুখী নয়।।" তবে সুখ ব্যাপারটা আপেক্ষিক। ঠিক মুদ্রার দুই পিঠের মত। কেউ লাখ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা করে শান্তিতে ঘুমায় আবার কারো হয় না। কেউ কেউ পরীক্ষার চাপে ঘুমাতে পারে না আবার কেউ না পড়েই ঘুমিয়ে থাকে। একই ঘটনায় যে সবাইকে সুখী হতে হয় এমনটা কোথাও বলা নেই। ঠিক দুঃখের বেলায় ও তাই। (২) নিচুতলার বা উঁচুতলার অনেকেই নিজেরদের জীবনের পারস্পরিক পরিবর্তন আশা করে বা পরিবর্তিত অবস্থায় নিজেদের দেখতে চায় কিন্তু আসলে কেউ মনে হয় সুখী হতে চায় না। যে সুখী মানুষ তার কাছে তলার উপর নিচ কোন ব্যাপার না। সে সব তলাতেই সুখী। জীবনটা যেমন সুন্দর তেমন অনেক বিচিত্রও। আমাদের স্মৃতি যেমন কিছু সাধারণ ব্যাপার পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে মনে রাখে আবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ভুলিয়ে দেয়। উঁচু নিচু দুই তলাতেই ছিলাম, দুই তলার মানুষের সাথেই দেখ...

স্বপ্রণোদিত ভাবনা-১

অলস মস্তিষ্কের কিছু স্বপ্রণোদিত ভাবনাঃ ১) মানুষ পরিবর্তনশীল,তাদের চিন্তা ধারাও। মানুষের চিন্তা ধারা অপরিবর্তিত থাকে, মানুষ নিজেও। ক্ষেত্র বিশেষে যে কোন একটি যেমন ঘটে, আবার যুগপৎ ও ঘটে। ২) কামারের কাছে লোহার মূল্যায়ন ঠিক ততটুকুই যতটুকু জহরে টুকরোর জহুরীর কাছে। জহুরীর কাছে লোহার টুকরো হয়ত মূল্যহীন কিন্তু কামারের কাছে জহর কখনোই মূল্য হারায় না। ৩) "আপনি ভাল মানুষ হলেই পুরো জগৎবাসী আপনার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে এমনটা আশা করা ঠিক নয়। আপনি নিরামিষভোজী হলে কি কোন ষাঁড় আপনাকে তাড়া করবে না?" এটা একজন জ্ঞানী ব্যক্তির বক্তব্য। ৪) কিছু ব্যপার কখনোই ব্যাখ্যা করা যায় না এবং মানুষ করতেও চায় না। কারণ অন্য কেউ সেটা বুঝবেও না তাই ব্যাখ্যা না করাই ভালো। সবাই একই মতাদর্শের যেমন না তেমনি তারা মতাদর্শে অভিন্ন হলেও ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন। ৫) আমাদের ব্যবহার আমাদেরকে ঠিক যেভাবে কাছে টেনে আনে, ঠিক সেইভাবেই আবার দূরেও ঠেলে দিতে পারে। পুরো ব্যাপারটাই নির্ভর করে তৎকালীন ব্যক্তিগত মন মানসিকতার উপর। ৬) যারা খেলতে আসে বা অভিনয় করতে আসে তারা জানে যে বয়স এবং ফিটনেস ফ্যাক্ট এখানে। কোম্পানি তাকেই ...